Bagatipara Natore

নাটোর প্রতিনিধি : করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনকে সার্বিক সহযোগিতা করতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে থাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ উঠেছে বাগাতিপাড়ার একাধিক দপ্তরের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং ৩৮.০০২.০২৩.০০.০০.০০১.২০০৬-৪১৬ ও ২৪ এপ্রিল-২০২০  সূত্র মতে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রতিরোধ ও এর প্রাদুর্ভাবজনিত যে কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীগণকে স্থানীয় প্রশাসনকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু বিশ্বব্যাপী চলমান এই দুর্যোগে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকে ছুটি কাটাচ্ছেন অনেক কর্মকর্তাগণ। এমন কর্মকর্তা হলেন নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মজনু মিয়া ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফ আলী মণ্ডল।

কর্মস্থলে থাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও কেন কর্মস্থলে উপস্থিত নেই এমন প্রশ্নে আশরাফ আলী মন্ডল দাবি করেন, তিনি জ্বর সর্দি কাশিতে আক্রান্ত হওয়ার কারণে বাগাতিপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তারের পরামর্শ নেন। ডাক্তার তাকে ১৪ দিন বাসায় থাকতে বলেন। তাই তিনি আজ শনিবার (১১এপ্রিল) ১২ দিন যাবত নিজ বাড়ি রাজশাহীতে তার অবস্থান করছেন। তবে তার এই বক্তব্যের সত্যতা মেলেনি বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার নাজমুস সাকিব বলেন, শিক্ষা অফিসার আশরাফ আলী মন্ডল এমন কোন উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন বা তাকে ১৪দিন বাসায় থাকতে বলা হয়েছে এমন কোন তথ্য হাসপাতালে নেই।

স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত না করে কর্মস্থল ত্যাগ করাটা ঠিক হয়নি স্বীকার করে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মজনু মিয়া ভারপ্রাপ্ত দাবি করেন,  তার এজমার সমস্যা হওয়ায় তিনি কর্মস্থল থেকে বাসায় অবস্থান করছেন । তবে নিজ বাড়িতে অবস্থান করলেও অনলাইনের মাধ্যমে অফিশিয়াল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি বৈশাখী ভাতার একটি অংশ শিক্ষকদের কাছ থেকে নেওয়ার জন্য প্রত্যেকটি ইউনিয়নে আলাদা আলাদা শিক্ষককে দায়িত্ব দিয়ে অফিস সহকারীর মাধ্যমে তা সরকারি ফান্ডে জমা করা নিশ্চিত করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা রতন কুমার সাহা গত বুধবার থেকে টানা তিন দিন কর্মস্থলে ছিলেন না বলে জানান পিয়ারা নামে একজন সেবা গ্রহীতা।

কর্মস্থলে থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে কতটুকু  এমন প্রশ্নে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা রতন কুমার সাহা বলেন, বিধি অনুযায়ী ২৪ঘণ্টা কর্মস্থলে থাকার নিয়ম রয়েছে। বর্তমানে চলমান সংকটে টানা পনের দিন কর্মস্থলেই ছিলেন। কিন্তু অসুস্থতা জনিত সমস্যায় গত বুধবার কর্মস্থলে থাকতে পারেননি বলে জানান তিনি।

কর্মস্থলে না থাকায় সত্যতা নিশ্চিত করেন বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা দেবী পাল। তিনি  জানান প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দুজন কর্মকর্তার মধ্যে একজনও আমাকে জানিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেননি। সরকারি নির্দেশনা থাকার পরও তাদের কর্মস্থল ত্যাগ করাটা কর্তব্যের প্রতি অবহেলা। তাদের এই অবহেলা আইনগতভাবে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

বিষয়টি নিয়ে নাটোর-১ (লালপুর বাগাতিপাড়া) আসনের সাংসদ শহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, চলমান এই দুর্যোগকালীন সময়ে জনপ্রতিনিধি, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মী সহ  আমরা সকলেই মিলে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি।  দিন-রাত পরিশ্রম করে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছি।  সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কোনো কর্মকর্তা কর্মস্থলে না থাকাটা নৈতিকতা বিরোধী। এটাতো কোনো দায়িত্বশীল আচরণের মধ্যে পড়ে না। স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়গুলোর দিকে গুরুত্বসহকারে নজর দেওয়ার প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।